প্রতিনিধি, খুলনা: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে ৩য় শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া খাতুনের (৮) বস্তাবন্দী জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে এলাকাবাসী স্থানীয় একটি পুকুর বস্তাবন্দী লাশ দেখে পুলিশে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ মাদ্রাসা ছাত্র ১২ বছরের রাসেলসহ পরিবারের চার সদস্যকে আটক করেছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, দেয়াড়া আরডি এন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী শেখ শাহাজাহান বয়াতির শিশু কন্যা শনিবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। এই সময় সে পার্শ¦বর্তী রাসেলদের বাড়িতে টিভি দেখছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ১২ বছর বয়সী রাসেল রাবেয়া খাতুনকে ছুরি ও ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার লাশ বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে দেয়।
রবিবার সকালে হোসেন ম্যাটের পুকুরে বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশকে খবর দেয় এরাকাবাসী। দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার মুখ খোলেন। পরে বস্তার ভিতর থেকে রাবেয়া খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করার দাগ ছিল।
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না। তিনি জানান, রাসেল হত্যার কথা স্বীকার করেছে, তবে কেন হত্যা করেছে তা জানায়নি। তিনি আরও জানান, রাসেলের ঘরে জমাট বাধা রক্ত আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আটককৃতারা হলো রাসেল (১২) তার মা রাশু আকতার (৩৪), বোন পিংকি (১৭) এবং দাদি মনোয়ারা (৬০)। পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।
থানায় আটক রাসেলের সাথে কথা বললে সে সাংবাদিকদেরকে জানায় টিভি দেখতে দেখতে বিদ্যুৎ চলে গেলে সে রাবেয়া খাতুনকে জবাই করে হত্যা করে। তবে কেন হত্যা করেছে তা জানতে চাইলে সে নিরব থাকে।
রাসেলের মা জানায়, তার ছেলে রবিবার সকালেই মাদ্রাসায় চলে যাবার কথা। সে ফুলতলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। মা রাশু আক্তার জানায়, সে নিজে ভারতে থাকে। কিন্তু কেন তার ছেলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটালো সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারে না।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ রাসেল কিছুদিন আগে এক ব্যক্তির চোখে আঘাত করেছিল, যা নিয়ে এলাকায় শালিস বিচারও হয়।
নিহত রাবেয়া খাতুনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার পিতা শাহাজাহান বয়াতি রাসেল ও তার মা রাশু আক্তার বেগমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারে বলা হয় তার স্ত্রী ভারতে থাকে। রাসেলদের বাড়িতে টিভি দেখতে গেলে তাকে জবাই করে এই হত্যা করা হয়।
