মংলার মেয়রকে অবসরপ্রাপ্ত ৪ কর্মীর ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ

জাহিবা হোসাইন, মংলা (বাগেরহাট): অবসরপ্রাপ্ত চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য মংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়রকে নির্দেশ  দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একই সাথে সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে বিধিবহির্ভূত ভাবে পদোন্নতি দেওয়ায় মেয়রকে কারণ দর্শানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মংলা পোর্ট পৌরসভার চারজন অবসরপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বকেয়া পাওনা হয়। কিন্তু ওই পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কালক্ষেপণ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাদের পাওনা আদায়ে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০ অক্টোবর  মংলা পোর্ট পৌরসভা অভিযোগকারী ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পরিলক্ষিত বিষয়গুলি দ্রুত নিষ্পন্ন করার জন্য গত ৩ নভেম্বর পৌর মেয়রকে নির্দেশ প্রদান করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার সহকারী সচিব এ কে এম আনিছুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পন্ন করার জন্য মেয়র মো. জুলফিকার আলীকে  নির্দেশ প্রদান করা হয়। ওই নির্দেশনায় পৌরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর নির্ধারক দান্তে সুধাংশু সরদারের আনুতোষিক বাবদ ৭ লাখ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা, অবসরপ্রাপ্ত স্টোর কিপার নির্মলা ভান্ডারের আনুতোষিক, ছুটি নগদায়ন, চার মাসের বকেয়া বেতন এবং সিকিউরিটির টাকা বাবদ ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩২০ টাকা,  অবসরপ্রাপ্ত কার্য সহকারী মো. আবু বকর ছিদ্দিকের আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়ন বাবদ মোট ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং অবসরপ্রাপ্ত নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক শেখ জাবেদ আলীর আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়ন বাবদ ৭ লাখ  ৯০ হাজার ৫২০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া মংলা পোর্ট পৌরসভা থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্যত্র বদলিজনিত কারণে যে সকল কর্মচারীর প্রাপ্য আনুতোষিক ও প্র্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধ করা হয়নি চিঠিতে তা দ্রুত পরিশোধ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে মংলা পোট পৌরসভার অফিস সহায়ক এমএলএসএস হিসেবে নিয়োগকৃত মো. শহিদুল ইসলামকে বিধিবহির্ভূত ভাবে নিম্রমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বর্তমানে মো. শহিদুল ইসলাম উচ্চমান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে এ পদোন্নতি দেওয়ায় মেয়রকে কারণ দর্শানো হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওই একই চিঠিতে। শহিদুল ইসলামকে তার মূল পদে দায়িত্ব দিয়ে নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক বা উচ্চমান সহকারীর পদ ও স্কেলে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ পৌরসভার কোষাগারে জমা প্রদান করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রেরিত চিঠির কথা স্বীকার করে প্যানেল মেয়র মো. আলাউদ্দিন বলেন, চিঠিতে যে সকল বিষয়  দ্রুত নিষ্পত্তি  করার কথা বলা হয়েছে সে সকল বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি চলছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.