হাকিম বাবুল, শেরপুর: জামিন পাওয়া আসামিকে ছাড়ানো নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর কারাগারের প্রধান ফটকের ভেতর স্থানীয় দালাল চক্রের সদস্যরা কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় মো. সেলিম মোল্লা ও আবু জাফর নামে জেলা কারাগারের দুই কারারক্ষী আহত হয়েছেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় দালাল চক্রের কথিত নেতা আলমগীর হোমেন ওরফে বিশু ড্রাইভারসহ তার ৫ সহযোগী আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামিন পাওয়া বেশ কয়েকজন আসামিকে সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হলে কারাগারের পাশে নৌহাটা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বিশু ড্রাইভারের সঙ্গে কারারক্ষীদের বাক-বিতন্ডা হয়। এ সময় কারারক্ষীরা তাকে মূল ফটকের বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অমান্য করায় বিশু ও তার সহযোগীদের কারারক্ষীরা ওই এলাকা থেকে বের করে দেয়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন কারাগারের মূল ফটকের ভেতর ঢুকে কারারক্ষীদের ওপর হামলা করে। এ সময় সেলিম মোল্লা ও আবু জাফর নামে দুই কারারক্ষীকে তারা বেদম পিটিয়ে ইট দিয়ে আঘাত করে আহত করে। পরে কারারক্ষীরা একত্রিত হয়ে বিশু ড্রাইভারসহ দুইজনকে আটক করে উত্তম মধ্যম দেয়। খবর পেয়ে শেরপুর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
এ ব্যাপারে জেল সুপার মজিবুর রহমান বলেন, বিশু ড্রাইভারের নেতৃত্বে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার নেতৃত্বে কারাগারের আশপাশে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। দালাল চক্রটি নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত। বিশু তার সহযোগীদের নিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করলে কারারক্ষীরা কারাগারের নিরাপত্তার জন্য সংরক্ষিত এলাকা থেকে তাদের চলে যেতে বলে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জেলা কারাগারের মুল ফটকের ভেতরে এসে নিরাপত্তা কর্মীদের হামলা করে আহত করে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শেরপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, আহত বিশু ড্রাইভার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
